• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

রাবির চারুকলা বিভাগে অযোগ্যকে স্থায়ী নিয়োগের চেষ্টা

রাজশাহী বিশ্ববিদালয়সিসি ডেস্ক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) চারুকলা বিভাগে এডহক ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া একজনকে শিক্ষককে স্থায়ীভাবে নিয়োগ দেয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত শিক্ষগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তাকে নিয়োগ দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ওই শিক্ষকের নাম মোসা. নাজনীন আকতার। তিনি ১৮ মার্চ ২০১০ সাল থেকে চারুকলা বিভাগের এডহকে চাকুরিরত রয়েছেন। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মধ্যমিকে দ্বিতীয় শ্রেণীর রেজাল্টে উর্ত্তীণ হন।

এদিকে যে পাঁচ পদের জন্য যারা নিয়োগ পেতে যাচ্ছে, তারা উক্ত বিভাগে এডহকে চাকুরিরত রয়েছে। এ মাসের শেষের দিকে সিন্ডিকেটের মাধ্যেমে তাদের চাকুরি স্থায়ী হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, ২১ আক্টোবর ২০১৪ সালে চারুকলা বিভাগের শূণ্য প্রভাষক পদসমূহ পূরণের জন্য ৫টি পদে বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়। পদগুলো হলো: প্রাচ্যকলায় তিন জন, ছাপচিত্রে এক জন ও কারুশিল্পে এক জন। শিক্ষাগত যোগ্যতায় বলা হয়, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর একটিতে প্রথম শ্রেণী অন্যটিতে দ্বিতীয় শ্রেণী থাকতে হবে। একই ভাবে এসএসসি ও এইচ এসসির একটিতে প্রথম শ্রেণী অন্যটিতে দ্বিতীয় শ্রেণী রেজাল্ট থাকতে হবে।

এদিকে শূণ্য পদে যারা নিয়োগ পেতে যাচ্ছে, তারা সবাই এডহকে নিয়োগ রয়েছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে প্রচ্যকলায় নাজনিন আকতার নামে একজন রয়েছে, যার এসএসসি ও এইচএসসি উভয় পরীক্ষায় দ্বিতীয় শ্রেণী রেজাল্ট থাকা সত্ত্বেও তাকে ১৮ মার্চ ২০১০ সালে বিভাগের প্লানিং কমিটির সুপারিশ ছাড়াই একক ক্ষমতাবলে এডহকে নিয়োগ দেয় তৎকালীন ভিসি প্রফেসর আব্দুস সোবহান। অথচ এডহকে নিয়োগ প্রচলিত নিয়োগবিধি মোতাবেক হয়ে থাকে। কিন্তু সেই নিয়ম না মেনেই তাকে এডহকে নিয়োগ দেয়া হয়। পরবর্তীতে এডহকে চাকুরি মানবিক কারণ দেখিয়ে বাড়ানো হয়।

এর আগে ১৬ জুন ২০০৯ সালে শূণ্য পদের জন্য ওপেন সার্কুলার দেয়া হয়। নাজনিন আক্তারের নির্ধারিত যোগ্যতা না থাকায়, সেখানে আবেদন করতে ব্যর্থ হয়।

বর্তমান প্রশাসন ২১ আক্টোবর ’১৪ তে পাঁচ শূণ্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয়। কিন্তু একই বিজ্ঞপ্তি ৯ এপ্রিল ১৫’ দেয়া হয়, সেখানে অতিরিক্ত একটি কথা যোগ করা হয়। কথাটি হলো “কর্মরত প্রর্থীর ক্ষেত্রে যে কোন একটি শর্ত শিথিলযোগ্য”। তবে প্রশাসনের এই নিয়মটি অনেকটা অযোক্তিক ও অকল্পণীয় নিয়ে বলে আখ্যায়িত করেছেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছিুক চারুকলা বিভাগের এক শিক্ষক বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মূলত নাজনিন আক্তারকে স্থায়ীভাবে চাকুরিতে নিয়োগের উদ্দেশ্যেই এই অযোক্তিক নিয়োমটি যোগ করা হয়েছে। মূলত তাকে নেয়ার জন্য একই বিজ্ঞপ্তি একাধিকবার সংশোধন করে নিয়োগ চূড়ান্ত করতে চাচ্ছে।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্টার প্রফেসর ড. এন্তাজুল হক বলেন, ‘কর্মরত প্রর্থীর ক্ষেত্রে একটি শর্ত শিথিলযোগ্য, এটা নতুন কিছু নয়। এটা রাজশহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রায় বিজ্ঞপ্তিতে থাকে।

তিনি বলেন, বিভাগের প্লানিং কমিটির সিদ্ধান্ত মেতাবেক নিয়োগ হয়ে থাকে এবং বিশেষ কোন শর্ত দিতে চাইলে, উপাচার্যের মাধ্যেমে সিন্ডিকেটে পাশ হয়ে থাকে।

বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন তালুকদার দেশের বাহিরে থাকায়, তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমানে বিভাগের দায়িত্ব থাকা প্রফেসর ড. মোস্তফা শরীফ আনোয়ার বলেন, ‘আমার এই বিষয়টি জানা নাই। এটা অনেক আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে, সম্ভবত এই মিটিংয়ে আমি উপস্থিত ছিলাম না। তবে তিনি বলেন, চারুকলা বিভাগে নিয়োগের ক্ষেত্রে রেজাল্টের পাশাপশি ছবি আঁকাসহ বিভিন্ন দিক খেয়াল করা হয়।’

এছাড়া নাজনিন আকতার ও আরো একজন এডহকে নিয়োগ থাকা শিক্ষক মো. হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে নারগিস সোমা নামে এক শিক্ষার্থীর খাতা টেম্পারিং এর অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে বিষয়টি হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

উৎস: টাইমনিউজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ